খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের নাশকতা রোধে সেনা অভিযান শুরু
- আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫ ৭০ বার পড়া হয়েছে
পার্বত্য খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ (প্রসিত বিকাশ খীসা) সশস্ত্র গোষ্ঠীর নাশকতা ঠেকাতে সেনাবাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সোমবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রামসু বাজার এলাকায় ইউপিডিএফের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলিতে তিন পাহাড়ি যুবক নিহত হওয়ার পর দুর্গম এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের পরিকল্পনা নেয় সেনাবাহিনী। পরে ১৮ অক্টোবর থেকে বর্মাছড়ি এলাকায় অভিযান শুরু হয়।
সেনাবাহিনী জানায়, ওই এলাকায় কোনো স্থায়ী সেনা ক্যাম্প না থাকায় সশস্ত্র ইউপিডিএফ সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল। অভিযান শুরুর পর সেনা টহল দল একটি জঙ্গলাকীর্ণ স্থানে অস্থায়ী পেট্রোল বেস স্থাপন করে, যা বন বিভাগের সংরক্ষিত খিরাম অংশের অন্তর্ভুক্ত।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযানের কারণে ইউপিডিএফ সদস্যরা বর্মাছড়ি থেকে সরে গিয়ে কালাপাহাড় ও ফটিকছড়ির দুর্গম এলাকায় অবস্থান নেয়। সেনা উপস্থিতি দুর্বল করতে সংগঠনটি স্থানীয় নারী, শিশু ও পুরুষদের জোরপূর্বক জমায়েত করে বিক্ষোভ আয়োজন করে এবং অনলাইনে প্রচার চালায় যে পেট্রোল বেসটি নাকি বর্মাছড়ি আর্য কল্যাণ বিহারের জমিতে স্থাপন করা হয়েছে। তবে সেনাবাহিনীর আহ্বানে তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করা যায়নি।
গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইউপিডিএফ নেতৃত্ব ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ওই বিহারে একটি বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা নেয়, যেখানে হাজারো মানুষকে জোরপূর্বক অংশগ্রহণে বাধ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই আয়োজনের মাধ্যমে সেনা অভিযানকে বিতর্কিত করা ও পার্বত্য অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে জানায় সেনাবাহিনী।
এ ছাড়া ইউপিডিএফের দেশি-বিদেশি অনলাইন কর্মীরা সেনাবাহিনী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে সেনাবাহিনী জানায়, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে অভিযান চালাচ্ছে। জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে অপারেশন পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সেনাবাহিনীর ব্যাখ্যায় বলা হয়, ইউপিডিএফ ও তাদের অঙ্গসংগঠন পরিকল্পিতভাবে নারী ও শিশুদের ব্যবহার করে সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে এবং পার্বত্য অঞ্চলকে সংঘাতময় করে তুলতে চাচ্ছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলে সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এড়াতে বর্মাছড়ির অস্থায়ী পেট্রোল বেসটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ইউপিডিএফের নাশকতা রোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে সেনাবাহিনী জানায়, পার্বত্য অঞ্চলে দায়িত্বে থাকা অফিসার ও সৈনিকরা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং রাষ্ট্রবিরোধী সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।










