জামায়াত জোটে যুক্ত এনসিপি ও এলডিপি, ভোটের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ
- আপডেট সময় : ০৭:৪৭:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬২ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে নতুন ধরনের মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) যুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
এক সময় আদর্শগতভাবে পরস্পর বিরোধী অবস্থানে থাকা কয়েকটি দল এখন নির্বাচনী সমঝোতার পথে হাঁটছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিসসহ একাধিক ধর্মভিত্তিক দল আগেই জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা শুরু করেছিল। নতুন করে এনসিপি ও এলডিপি যুক্ত হওয়ায় এই জোটে দলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দশটিতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জোট গঠন ভোটের মাঠে প্রতিযোগিতা বাড়াবে এবং রাজনীতিতে একটি নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে। তবে তারা মনে করেন, জোটের শক্তির চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও মাঠপর্যায়ের কাজই নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের প্রধান নিয়ামক হবে।
এদিকে এনসিপির ভেতরে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ দলটির অবস্থানকে কিছুটা দুর্বল করেছে বলে মত বিশ্লেষকদের। তাদের ধারণা, দলটির প্রগতিশীল সমর্থকদের একটি অংশ এ কারণে ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার দিকে ঝুঁকতে পারে।
অন্যদিকে বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, নতুন ইসলামপন্থি জোট গঠনে তাদের ভোটব্যাংকে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। দলটি আগেই এসব দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছিল। বিএনপির শীর্ষ নেতারা বারবার উল্লেখ করছেন—তারা ইসলামী মূল্যবোধের বিপক্ষে নয় এবং কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন সমর্থন করে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা আরও বলছেন, এবারের নির্বাচনে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ ভোটার কোন দিকে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। ফলে যে দল বা জোট জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দিতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জোট রাজনীতি নতুন নয়। অতীতের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনেই জোটের ভূমিকা ছিল নির্ণায়ক। তবে এবারের বাস্তবতা ভিন্ন—এখানে আদর্শের পাশাপাশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে নির্বাচনী লড়াই হবে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও কৌশলনির্ভর।













