ঢাকা ০৮:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুই ভাইয়ের স্ত্রী এক নারী, ঐতিহ্য রক্ষায় গর্বিত তারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫ ২৫ বার পড়া হয়েছে

ভারতের হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলায় দুই ভাই—প্রদীপ নেগি ও কপিল নেগি—সম্প্রতি একই নারী, সুনীতা চৌহানকে বিয়ে করে আলোচনায় এসেছেন। স্থানীয়ভাবে “জোড়িদার প্রথা” নামে পরিচিত এই রীতি মূলত ভ্রাতৃ-পলিয়ান্ড্রির আঞ্চলিক সংস্করণ, যেখানে এক নারীকে একাধিক ভাই বিয়ে করে।

প্রদীপ নেগি জানান, তাদের এলাকায় এ প্রথা প্রাচীনকাল থেকে চালু আছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে। সমালোচনা নিয়ে তিনি মাথা ঘামান না, বরং মনে করেন এটি তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। একই মত প্রকাশ করেছেন কপিল নেগিও। তিনি বলেন, এ বিয়ে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় হয়েছে এবং দুই পরিবারের পূর্ণ সমর্থন ছিল।

তাদের দাবি, তারা নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে এসেছেন এবং খ্যাতি অর্জনের জন্য নয়, বরং একসঙ্গে থাকার ইচ্ছা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রদীপের ভাষায়, “আমাদের জীবন আমাদের, আমরা এতে খুশি—তাই সমালোচনা না করে আমাদের মতো থাকতে দিন।”

গত ১২ জুলাই সিরমৌরের শিল্লাই এলাকায় তিন দিন ধরে নাচ, লোকগান ও উৎসবের মধ্য দিয়ে এ বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হয়। পাহাড়ি কৃষি সম্প্রদায়ের মধ্যে জমি ভাগ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে এ ধরনের বিয়ের প্রচলন রয়েছে। এ রীতিতে সাধারণত বড় ভাইকে সন্তানের আইনগত পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দুই ভাইয়ের স্ত্রী এক নারী, ঐতিহ্য রক্ষায় গর্বিত তারা

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

ভারতের হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলায় দুই ভাই—প্রদীপ নেগি ও কপিল নেগি—সম্প্রতি একই নারী, সুনীতা চৌহানকে বিয়ে করে আলোচনায় এসেছেন। স্থানীয়ভাবে “জোড়িদার প্রথা” নামে পরিচিত এই রীতি মূলত ভ্রাতৃ-পলিয়ান্ড্রির আঞ্চলিক সংস্করণ, যেখানে এক নারীকে একাধিক ভাই বিয়ে করে।

প্রদীপ নেগি জানান, তাদের এলাকায় এ প্রথা প্রাচীনকাল থেকে চালু আছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে। সমালোচনা নিয়ে তিনি মাথা ঘামান না, বরং মনে করেন এটি তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। একই মত প্রকাশ করেছেন কপিল নেগিও। তিনি বলেন, এ বিয়ে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় হয়েছে এবং দুই পরিবারের পূর্ণ সমর্থন ছিল।

তাদের দাবি, তারা নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে এসেছেন এবং খ্যাতি অর্জনের জন্য নয়, বরং একসঙ্গে থাকার ইচ্ছা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রদীপের ভাষায়, “আমাদের জীবন আমাদের, আমরা এতে খুশি—তাই সমালোচনা না করে আমাদের মতো থাকতে দিন।”

গত ১২ জুলাই সিরমৌরের শিল্লাই এলাকায় তিন দিন ধরে নাচ, লোকগান ও উৎসবের মধ্য দিয়ে এ বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হয়। পাহাড়ি কৃষি সম্প্রদায়ের মধ্যে জমি ভাগ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে এ ধরনের বিয়ের প্রচলন রয়েছে। এ রীতিতে সাধারণত বড় ভাইকে সন্তানের আইনগত পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।