সীমান্তে আরেকটি প্রাণহানি: পঞ্চগড়ে বিএসএফের গুলিতে যুবকের মৃত্যু নিয়ে উত্তেজনা

- আপডেট সময় : ১২:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত যেন বারবার পরিণত হচ্ছে মৃত্যুকূপে। পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের ঝুলিপাড়া এলাকায় সীমান্ত পিলার ৭৫১ এর ৩ নম্বর সাব পিলার সংলগ্ন এলাকায় আবারও ঝরলো এক বাংলাদেশি যুবকের প্রাণ। রাজু ইসলাম (৩৫) নামের এই যুবক শনিবার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারান বলে দাবি এলাকাবাসীর।
রোববার (১৫ জুন) সকালে তার মরদেহ দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায় বাড়িতে। চোখে-মুখে আতঙ্ক আর ক্ষোভের ছাপ—”আর কত? আর কত প্রাণ যাবে সীমান্তে?”—এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে প্রত্যেকের মনে।
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
স্থানীয়রা জানান, রাজুসহ কয়েকজন গরু আনতে গিয়েছিলেন সীমান্ত এলাকায়। ওই সময় বিএসএফ তাদের ধাওয়া করে। ফিরে আসার সময় রাজুর দুই পায়ে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি কোনোভাবে বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের ডাকেন। পরে তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।
রাজু হাড়িভাসা ইউনিয়নের ঝুলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও কৃষক আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।
বিভ্রান্তিকর তথ্য, দায় এড়ানোর চেষ্টা?
এ ঘটনায় সীমান্তজুড়ে চলছে নানা আলোচনা ও ক্ষোভ। একদিকে এলাকাবাসীর দাবি, রাজু বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, বিজিবির দাবি, স্থানীয়রা নাকি বলেছে—হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে।
হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নূর-ই-আলম বলেন, “সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি, রাজুর দুই পায়েই গুলির চিহ্ন স্পষ্ট। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে স্থানীয়দের কথার ভিত্তিতে হার্ট অ্যাটাকের বিষয়টি বলা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
নিহতের সংখ্যা বাড়ছে, সীমান্তে কি নিরাপত্তা নেই?
চেয়ারম্যান আরও জানান, “এটা প্রথম নয়। এ সীমান্তে ইতোমধ্যে ছয়জনকে মেরে ফেলেছে বিএসএফ। অথচ প্রতিবারই বিজিবি শুধু বলছে ‘তদন্ত হচ্ছে’।”
৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ মো. বদরুদ্দোজা বলেন, “স্থানীয়দের দেয়া তথ্য অনুযায়ী মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক বলেই জানা গেছে। বিএসএফ গুলি করেছে কি না, তা তারা অস্বীকার করেছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে…
তদন্ত চললেও, বাস্তবতা হলো—একজন বাংলাদেশি যুবক আর নেই। সীমান্তে গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে আরেকটি পরিবার, এক জনমদুঃখিনী মা হারায় তার সন্তানকে, এক স্ত্রী হয় বিধবা, এক শিশু হয় পিতৃহীন।
এটাই কি আমাদের নিয়তি? গুলি খেয়ে মরবে বাংলাদেশিরা, আর আমরা বলবো ‘তদন্ত চলছে’?