ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জনকণ্ঠ পত্রিকায় দ্বন্দ্ব-সংকট: মামলা, আন্দোলন ও সম্পাদকীয় বোর্ড গঠন

জনকণ্ঠ সম্পাদকসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, রাজপথে ৫ দফা দাবিতে বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫ ২৮ বার পড়া হয়েছে

জনকণ্ঠ পত্রিকার অভ্যন্তরীণ সংকট এখন আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। পত্রিকাটির উপপ্রধান প্রতিবেদক ইস্রাফিল ফরাজি সম্পাদক শামীমা এ খানসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পটভূমিতে রয়েছে ‘নিউজ কার্ডে’ লাল রং পরিবর্তন করে কালো রং ব্যবহারের সিদ্ধান্ত, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

মামলায় পত্রিকার মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ, হুমকি ও যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। পত্রিকার কর্মীদের একাংশ মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে এবং একটি ‘সম্পাদকীয় বোর্ড’ গঠন করে তারা পত্রিকাটি পরিচালনার দাবি তুলেছে।

পটভূমি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সংকটের সূত্রপাত ঘটে ১ অগাস্টে, যখন জনকণ্ঠ পত্রিকার ফেসবুক পেইজে লাল রঙের পরিবর্তে কালো রঙের টেমপ্লেট ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও অসন্তোষ তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, মালিকপক্ষ আওয়ামী লীগ ঘেঁষা অবস্থান থেকে এই পরিবর্তন করেছে, যা কিছু সাংবাদিকের মতে, “জুলাই বিপ্লবের শহীদদের অবমাননা।”

অন্যদিকে সম্পাদক শামীমা এ খান দাবি করেছেন, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত। আন্দোলনকারী সাংবাদিকরা পত্রিকা দখলের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে টেমপ্লেট কালো করে পরিস্থিতি তৈরি করেছেন।

মামলার বিবরণ

হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা মামলায় পত্রিকার মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লিখিত হলেও বাকিরা ‘অজ্ঞাত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় জনকণ্ঠের ভাইস চেয়ারম্যান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, হিসাবরক্ষক, মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামও রয়েছে।

আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবি

১. পত্রিকায় কালো টেমপ্লেট ব্যবহারের জন্য দায়ী মালিকপক্ষকে শাস্তি দিতে হবে।
২. লাল রঙ সমর্থনকারী চাকুরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহাল করতে হবে।
৩. ৬ কোটি টাকা বকেয়া বেতন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
৪. অন্যায়ভাবে চাকুরিচ্যুত ব্যক্তিদের সকল পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
৫. পাওনাদারদের সাথে মালিকপক্ষের অমানবিক আচরণের দায় নিতে হবে।

মালিক ও আন্দোলনকারীদের অবস্থান

পত্রিকার মালিকপক্ষ ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা আফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিএনপি ও জামায়াত ঘেঁষা সাংবাদিক নিয়োগের অভিযোগও উঠেছে। অপরদিকে আন্দোলনকারী পক্ষ দাবি করছে, তারা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও কর্মীদের সম্মতিতেই পত্রিকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে এবং এটি দখল নয় বরং ‘পত্রিকাটিকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াস’।

এক সময়ের প্রভাবশালী পত্রিকা জনকণ্ঠ বর্তমানে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং মালিকানা নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা নির্ভর করছে আদালতের সিদ্ধান্ত, আলোচনার অগ্রগতি এবং সাংবাদিক সমাজের ঐক্যের উপর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জনকণ্ঠ পত্রিকায় দ্বন্দ্ব-সংকট: মামলা, আন্দোলন ও সম্পাদকীয় বোর্ড গঠন

জনকণ্ঠ সম্পাদকসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, রাজপথে ৫ দফা দাবিতে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

জনকণ্ঠ পত্রিকার অভ্যন্তরীণ সংকট এখন আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। পত্রিকাটির উপপ্রধান প্রতিবেদক ইস্রাফিল ফরাজি সম্পাদক শামীমা এ খানসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পটভূমিতে রয়েছে ‘নিউজ কার্ডে’ লাল রং পরিবর্তন করে কালো রং ব্যবহারের সিদ্ধান্ত, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

মামলায় পত্রিকার মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ, হুমকি ও যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। পত্রিকার কর্মীদের একাংশ মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে এবং একটি ‘সম্পাদকীয় বোর্ড’ গঠন করে তারা পত্রিকাটি পরিচালনার দাবি তুলেছে।

পটভূমি ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সংকটের সূত্রপাত ঘটে ১ অগাস্টে, যখন জনকণ্ঠ পত্রিকার ফেসবুক পেইজে লাল রঙের পরিবর্তে কালো রঙের টেমপ্লেট ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও অসন্তোষ তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, মালিকপক্ষ আওয়ামী লীগ ঘেঁষা অবস্থান থেকে এই পরিবর্তন করেছে, যা কিছু সাংবাদিকের মতে, “জুলাই বিপ্লবের শহীদদের অবমাননা।”

অন্যদিকে সম্পাদক শামীমা এ খান দাবি করেছেন, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত। আন্দোলনকারী সাংবাদিকরা পত্রিকা দখলের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে টেমপ্লেট কালো করে পরিস্থিতি তৈরি করেছেন।

মামলার বিবরণ

হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা মামলায় পত্রিকার মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লিখিত হলেও বাকিরা ‘অজ্ঞাত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় জনকণ্ঠের ভাইস চেয়ারম্যান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, হিসাবরক্ষক, মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামও রয়েছে।

আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবি

১. পত্রিকায় কালো টেমপ্লেট ব্যবহারের জন্য দায়ী মালিকপক্ষকে শাস্তি দিতে হবে।
২. লাল রঙ সমর্থনকারী চাকুরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহাল করতে হবে।
৩. ৬ কোটি টাকা বকেয়া বেতন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
৪. অন্যায়ভাবে চাকুরিচ্যুত ব্যক্তিদের সকল পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
৫. পাওনাদারদের সাথে মালিকপক্ষের অমানবিক আচরণের দায় নিতে হবে।

মালিক ও আন্দোলনকারীদের অবস্থান

পত্রিকার মালিকপক্ষ ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা আফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিএনপি ও জামায়াত ঘেঁষা সাংবাদিক নিয়োগের অভিযোগও উঠেছে। অপরদিকে আন্দোলনকারী পক্ষ দাবি করছে, তারা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও কর্মীদের সম্মতিতেই পত্রিকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে এবং এটি দখল নয় বরং ‘পত্রিকাটিকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াস’।

এক সময়ের প্রভাবশালী পত্রিকা জনকণ্ঠ বর্তমানে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং মালিকানা নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা নির্ভর করছে আদালতের সিদ্ধান্ত, আলোচনার অগ্রগতি এবং সাংবাদিক সমাজের ঐক্যের উপর।