ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিকিম: রাজতন্ত্র থেকে ভারতের অঙ্গরাজ্যে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫ ১৫ বার পড়া হয়েছে

স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সর্বশেষ যে ভূখণ্ড সংযুক্ত হয়েছিল, সেটি হলো হিমালয়ের কোলে অবস্থিত সিকিম। ছোট্ট রাজ্য হলেও সিকিমের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর।

সত্যজিৎ রায় ও সিকিমের প্রামাণ্যচিত্র

সত্তরের দশকের শুরুতে সিকিমের রাজপরিবার চেয়েছিল তাদের দেশকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে। এজন্য তারা বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়কে দিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর লক্ষ্য ছিল সিকিমকে একটি স্বতন্ত্র, অনন্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ভূখণ্ড হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা। তবে নানা জটিলতার কারণে সেই চলচ্চিত্র দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের কাছে প্রদর্শিত হয়নি।

রাজতন্ত্রের অবসান

সিকিমের সর্বশেষ চোগিয়াল (রাজা) প্যালডেন থন্ডুপ নামগিয়াল হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি যে নিউ ইয়র্কে তার রাজকীয় সফরের সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই তার রাজত্বের সমাপ্তি ঘটবে। অবশেষে ১৯৭৫ সালের ১৬ই মে সিকিম রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ভারতীয় ইউনিয়নের ২২তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে সিকিমের আত্মপ্রকাশ হয়।

ইন্দিরা গান্ধী ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত

সিকিমকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। দেশীয় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তিনি দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেন। এ প্রক্রিয়ায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং’ (র) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কাজী লেন্দুপ দর্জির অবদান

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একমত—শুধু কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বা গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রমেই এ ঘটনা সম্ভব হয়নি। সিকিমের ভেতরে শক্তিশালী নেতৃত্ব ও গণসমর্থনও প্রয়োজন ছিল। সেই নেতৃত্ব দেন কাজী লেন্দুপ দর্জি, যিনি এলডি কাজী নামেও পরিচিত। তিনি ছিলেন সিকিমের একজন জনপ্রিয় নেতা এবং জনগণের মধ্যে প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর। তাঁর সমর্থন ছাড়া সিকিমের ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া এত দ্রুত ও নির্দ্বিধায় সম্ভব হতো না।

পঞ্চাশ বছরের উদযাপন

২০২৫ সালের মে মাসে সিকিম ভারতের অংশ হওয়ার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে নানা উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীন পরিচয়ের পর আজ সিকিম ভারতের একটি সমৃদ্ধ ও উন্নয়নশীল অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সিকিম: রাজতন্ত্র থেকে ভারতের অঙ্গরাজ্যে

আপডেট সময় : ০৪:১৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সর্বশেষ যে ভূখণ্ড সংযুক্ত হয়েছিল, সেটি হলো হিমালয়ের কোলে অবস্থিত সিকিম। ছোট্ট রাজ্য হলেও সিকিমের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর।

সত্যজিৎ রায় ও সিকিমের প্রামাণ্যচিত্র

সত্তরের দশকের শুরুতে সিকিমের রাজপরিবার চেয়েছিল তাদের দেশকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে। এজন্য তারা বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়কে দিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর লক্ষ্য ছিল সিকিমকে একটি স্বতন্ত্র, অনন্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ভূখণ্ড হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা। তবে নানা জটিলতার কারণে সেই চলচ্চিত্র দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের কাছে প্রদর্শিত হয়নি।

রাজতন্ত্রের অবসান

সিকিমের সর্বশেষ চোগিয়াল (রাজা) প্যালডেন থন্ডুপ নামগিয়াল হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি যে নিউ ইয়র্কে তার রাজকীয় সফরের সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই তার রাজত্বের সমাপ্তি ঘটবে। অবশেষে ১৯৭৫ সালের ১৬ই মে সিকিম রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ভারতীয় ইউনিয়নের ২২তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে সিকিমের আত্মপ্রকাশ হয়।

ইন্দিরা গান্ধী ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত

সিকিমকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। দেশীয় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তিনি দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেন। এ প্রক্রিয়ায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং’ (র) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কাজী লেন্দুপ দর্জির অবদান

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একমত—শুধু কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বা গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রমেই এ ঘটনা সম্ভব হয়নি। সিকিমের ভেতরে শক্তিশালী নেতৃত্ব ও গণসমর্থনও প্রয়োজন ছিল। সেই নেতৃত্ব দেন কাজী লেন্দুপ দর্জি, যিনি এলডি কাজী নামেও পরিচিত। তিনি ছিলেন সিকিমের একজন জনপ্রিয় নেতা এবং জনগণের মধ্যে প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর। তাঁর সমর্থন ছাড়া সিকিমের ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া এত দ্রুত ও নির্দ্বিধায় সম্ভব হতো না।

পঞ্চাশ বছরের উদযাপন

২০২৫ সালের মে মাসে সিকিম ভারতের অংশ হওয়ার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে নানা উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীন পরিচয়ের পর আজ সিকিম ভারতের একটি সমৃদ্ধ ও উন্নয়নশীল অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত।