একাত্তরের ভুলের জন্য জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করলেন জামায়াত আমির
- আপডেট সময় : ০৪:১১:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ৭৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়কার দলের অবস্থানকে ভুল বলে স্বীকার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
“আমাদের অবস্থান ভুল ছিল” — ডা. শফিকুর রহমান
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন,
> “১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে আমাদের দলের রাজনৈতিক অবস্থান সঠিক ছিল না। সেই সময় আমরা যেভাবে ঘটনাগুলোকে দেখেছিলাম, ইতিহাস তার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। আমরা সেই ভুলের জন্য গভীর অনুতপ্ত এবং জাতির কাছে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
তিনি আরও বলেন, অতীতের ভুলকে স্বীকার করা ও নতুন প্রজন্মের কাছে দায়মুক্তি নয় বরং একটি দায়িত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা উচিত। “ভবিষ্যতে যেন আর কোনো রাজনৈতিক দল দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান না নেয়, সেটিই আমাদের শিক্ষা,” যোগ করেন তিনি।
গণভোট ও নির্বাচনের প্রসঙ্গ
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনমতের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে একটি গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন জামায়াত আমির।
তার ভাষায়, “জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। আমরা চাই, নির্বাচনের আগে জনগণের মতামত স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হোক। এজন্য গণভোট একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।”
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, “আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। নির্বাচনের প্রক্রিয়া যেন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হয়, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সাম্যচিন্তা
সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
> “যদি জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় আসে, তবে দেশের প্রত্যেক নাগরিক— ধর্ম, বর্ণ, মত বা অবস্থান নির্বিশেষে— সংবিধান প্রদত্ত অধিকার অনুযায়ী নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারবেন। ইসলাম কখনোই বৈষম্য বা সহিংসতাকে সমর্থন করে না।”
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতি একটি ঐতিহ্য, এবং সেটি রক্ষা করা সরকারের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে জামায়াত আমির জানান, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া দরকার।
তিনি বলেন, “আমরা চাই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠুক। কোনো দেশের সঙ্গে বৈরিতা নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার সম্পর্কই আমাদের নীতি।”
রাজনৈতিক সংস্কার ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা
সভায় তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সংস্কার জরুরি। জনসংখ্যা নিবন্ধন (PR), নির্বাচন প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক কাঠামোতে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। “গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন জনগণ নিজেদের শাসনব্যবস্থায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকে,” মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বের এমন সরাসরি ক্ষমা প্রার্থনা এই প্রথম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।














