ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পঞ্চগড়ে ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলামের উদ্যোগে ৭০ পরিবারে ঈদ উপহার বিতরণ তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা: ২৫ পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী পঞ্চগড়ে পাল্টে গেল রাজনীতির সমীকরণ: বিএনপির প্রত্যাবর্তন তীব্র শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা, কিছু এলাকায় তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে জামায়াত জোটে যুক্ত এনসিপি ও এলডিপি, ভোটের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ উসকানির মুখেও ধৈর্য ধরার আহ্বান তারেক রহমানের জুলাইযোদ্ধা পরিচয়ে পরিচিত তাহরিমা জান্নাত সুরভী গ্রেফতার দেবীগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের মা-বোনের আলাপ অনুষ্ঠিত দেবীগঞ্জে সামাজিক মাধ্যম ও এআই অপব্যবহার প্রতিরোধে গোলটেবিল বৈঠক ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: গ্রুপপর্বের ড্র প্রকাশ, উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো–দক্ষিণ আফ্রিকা

আকাশ প্রতিরক্ষায় নতুন যুগে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৩:২৬:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫ ১৩৪ বার পড়া হয়েছে

“বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত”—এই অঙ্গীকারে গঠিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এখন আধুনিকায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশের আকাশসীমা সুরক্ষার পাশাপাশি যেকোনো যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেনা ও নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে শত্রুপক্ষকে মোকাবিলা করাই এই বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। উচ্চমানের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার কারণে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্যরা বিমান পরিচালনা, উড্ডয়ন ও সামরিক অপারেশনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুনাম অর্জন করেছেন।

আধুনিক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার সংগ্রহ

দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত আধুনিক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারের অভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়নের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে।
ইতালির তৈরি ইউরোফাইটার টাইফুন, চীনের জে-১০সি, পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান এবং তুরস্কের টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আকাশ প্রতিরক্ষায় আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ইতালি থেকে ১০টি ৪.৫ প্রজন্মের ইউরোফাইটার টাইফুন ও তুরস্ক থেকে ৬টি টি-১২৯ হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি পর্যায়ে সমঝোতার মাধ্যমে চুক্তি চূড়ান্তের প্রক্রিয়া চলছে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন

সরকার ইতালি ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ও দর-কষাকষির জন্য ১২ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে। এতে প্রতিরক্ষা, অর্থ, পররাষ্ট্র, আইন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধি রয়েছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যেই এই ক্রয়চুক্তি সম্পন্নের লক্ষ্যে কাজ করছে কমিটি।

চীন ও পাকিস্তান থেকে ক্রয়

এ বছরের শুরুতে চীনের সঙ্গে জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রায় ২২০ কোটি ডলারের চুক্তিতে ২০টি জে-১০সি কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রশিক্ষণ ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি ১৬টি জেএফ-১৭ থান্ডার কেনার জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে ৭২০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা চাহিদা

পাক-ভারত সীমান্ত, চীন-ভারত উত্তেজনা, অরুণাচল ও মায়ানমার ইস্যু—এই আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নকে জরুরি মনে করছে সরকার। অতীতে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ ব্যাহত হলেও বর্তমান সরকার আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার দিকে স্পষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক সহকারী প্রধান এয়ার কমোডর (অব.) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,

> “নতুন বিমান ও হেলিকপ্টার সংগ্রহ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের সূচনা। এ উদ্যোগের ফলে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি রাডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, গোয়েন্দা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, ইউরোফাইটার টাইফুন ও জে-১০সি—উভয়ই বিশ্বমানের যুদ্ধবিমান। টাইফুনের ডাবল ইঞ্জিন, অ্যান্টিশিপ মিসাইল ও ন্যাটো স্ট্যান্ডার্ড প্রযুক্তি নৌবাহিনীকেও সাপোর্ট দিতে পারবে। অন্যদিকে জে-১০সি তুলনামূলক কম খরচে উন্নত কর্মক্ষমতা দেয় এবং এর ওপর কোনো রাজনৈতিক শর্ত আরোপ নেই।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বর্তমান শক্তি (সংক্ষেপে)

ওয়ার পাওয়ার বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী—

মোট বিমান: ২১২টি

যুদ্ধবিমান: ৪৪টি (এর মধ্যে ৩৬টি এফ-৭)

মিগ-২৯বি: ৮টি

হেলিকপ্টার: এমআই-১৭ বহর

পরিবহন বিমান: সি-১৩০জে

প্রশিক্ষণ বিমান: কে-৮ (চীন নির্মিত)

নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার যুক্ত হলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী শুধু আকাশ প্রতিরক্ষায় নয়, আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আকাশ প্রতিরক্ষায় নতুন যুগে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৩:২৬:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

“বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত”—এই অঙ্গীকারে গঠিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এখন আধুনিকায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশের আকাশসীমা সুরক্ষার পাশাপাশি যেকোনো যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেনা ও নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে শত্রুপক্ষকে মোকাবিলা করাই এই বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। উচ্চমানের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার কারণে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্যরা বিমান পরিচালনা, উড্ডয়ন ও সামরিক অপারেশনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুনাম অর্জন করেছেন।

আধুনিক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার সংগ্রহ

দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত আধুনিক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারের অভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়নের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে।
ইতালির তৈরি ইউরোফাইটার টাইফুন, চীনের জে-১০সি, পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান এবং তুরস্কের টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আকাশ প্রতিরক্ষায় আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সালের মধ্যে ইতালি থেকে ১০টি ৪.৫ প্রজন্মের ইউরোফাইটার টাইফুন ও তুরস্ক থেকে ৬টি টি-১২৯ হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি পর্যায়ে সমঝোতার মাধ্যমে চুক্তি চূড়ান্তের প্রক্রিয়া চলছে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন

সরকার ইতালি ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ও দর-কষাকষির জন্য ১২ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে। এতে প্রতিরক্ষা, অর্থ, পররাষ্ট্র, আইন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধি রয়েছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যেই এই ক্রয়চুক্তি সম্পন্নের লক্ষ্যে কাজ করছে কমিটি।

চীন ও পাকিস্তান থেকে ক্রয়

এ বছরের শুরুতে চীনের সঙ্গে জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রায় ২২০ কোটি ডলারের চুক্তিতে ২০টি জে-১০সি কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রশিক্ষণ ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি ১৬টি জেএফ-১৭ থান্ডার কেনার জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে ৭২০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা চাহিদা

পাক-ভারত সীমান্ত, চীন-ভারত উত্তেজনা, অরুণাচল ও মায়ানমার ইস্যু—এই আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নকে জরুরি মনে করছে সরকার। অতীতে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ ব্যাহত হলেও বর্তমান সরকার আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার দিকে স্পষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক সহকারী প্রধান এয়ার কমোডর (অব.) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,

> “নতুন বিমান ও হেলিকপ্টার সংগ্রহ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের সূচনা। এ উদ্যোগের ফলে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি রাডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, গোয়েন্দা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, ইউরোফাইটার টাইফুন ও জে-১০সি—উভয়ই বিশ্বমানের যুদ্ধবিমান। টাইফুনের ডাবল ইঞ্জিন, অ্যান্টিশিপ মিসাইল ও ন্যাটো স্ট্যান্ডার্ড প্রযুক্তি নৌবাহিনীকেও সাপোর্ট দিতে পারবে। অন্যদিকে জে-১০সি তুলনামূলক কম খরচে উন্নত কর্মক্ষমতা দেয় এবং এর ওপর কোনো রাজনৈতিক শর্ত আরোপ নেই।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বর্তমান শক্তি (সংক্ষেপে)

ওয়ার পাওয়ার বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী—

মোট বিমান: ২১২টি

যুদ্ধবিমান: ৪৪টি (এর মধ্যে ৩৬টি এফ-৭)

মিগ-২৯বি: ৮টি

হেলিকপ্টার: এমআই-১৭ বহর

পরিবহন বিমান: সি-১৩০জে

প্রশিক্ষণ বিমান: কে-৮ (চীন নির্মিত)

নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার যুক্ত হলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী শুধু আকাশ প্রতিরক্ষায় নয়, আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।